লবণের প্যাকেট চুরি করতে গিয়ে সুপারশপে ধরা খেলো মিথিলা!

Shafin Ahmed
লবণের প্যাকেট চুরি করতে গিয়ে সুপারশপে ধরা খেলো এক গৃহিণী!
লবণের প্যাকেট চুরি করতে গিয়ে সুপারশপে ধরা খেলো এক গৃহিণী!

দুদিন আগে সারা দেশে কে বা কারা যেন লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়েছিল, পেঁয়াজের মতো লবণের দামও নাকি তরতর করে বেড়ে যাবে। এই গুজবে কান দিনে গণহারে লবণ কেনা শুরু করে সাধারণ জনগণ। ফলে বিভিন্ন এলাকার মুদি দোকানগুলোতে হুট করেই অস্থায়ী লবণ সংকট দেখা দিয়েছিল। যেখানে ১ কেজি লবণ দিয়েই একটা পরিবারের সারা মাস চলে যায়, সেখানে অনেক পরিবার ১০-১৫ কেজি করে লবণ কিনে মজুদ করে ফেলেছে দাম বাড়ার আশঙ্কায়। এই গুজবের ফায়দা হাসিল করেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী! গুজবের সুযোগে তারা চড়া দামে লবণ বিক্রি শুরু করে। অবশ্য লবণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তরুণদের পাশাপাশি প্রশাসনও সোচ্চার হয়ে উঠে। লবণের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানের ফলে গুজবের রেশ অনেকটা কমে এসেছে এবং লবণের দামও আগের মতো স্থির হওয়া শুরু করেছে। কিন্তু এখনো অনেক সাধারণ মানুষের মনে থেকে গেছে এই গুজব। তাঁর প্রমাণ মিলল আজ সকালে মিরপুরের এক সুপারশপে! আজ সকাল ১১টার দিকে মিরপুরের কাজীপাড়ায় অবস্থিত স্বপ্ন সুপারশপ থেকে লবণের প্যাকেট চুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন এক গৃহিণী!

মিরপুরে বসবাসকারী ওই গৃহিণীর নাম মোছাম্মৎ মিথিলা জাহান! তার স্বামী সুমিত খান কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন। ছেলে-মেয়ে ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে তিনি কাজীপাড়ায় ভাড়া থাকেন। আজ সকালে মুদি দোকানে বাজার করতে গিয়ে তিনি দেখেন, কোনো দোকানেই নাকি লবণ নেই। লবণের দাম বাড়ার বিষয়টি যে গুজব তা তিনি মোটেও জানতেন না! তার উপর অনেক দোকান ঘুরেও লবণ না পাওয়ায় ব্যাপারটাকে একদম পুরোপুরি সত্য ধরে নেন তিনি। শেষমেষ বাজার করতে নিকটস্থ স্বপ্ন সুপারশপে ঢুকেন তিনি। সুপারশপের এককোনায় অনেকগুলো লবণের প্যাকেট দেখতে পেয়ে ভুলটা করে বসেন। সিসি টিভির কথা ভুলে গিয়ে, ৩টি লবণের প্যাকেট বোরখার আড়ালে ঢুকিয়ে ফেলেন! তিনি ভেবেছিলেন এই ৩প্যাকেট লবণের দাম হয়তো ৬০০-৭০০ টাকা হবে। অথচ প্যাকেটগুলো ছিল মাত্র ৪০ টাকা দামের। এদিকে এই পুরো ঘটনা শপ ম্যানেজার ক্যাশ-কাউন্টারে বসে বসে মনিটরে দেখছিলেন। পরে ওই মহিলা ৫লিটারের একটা সয়াবিন তেল নিয়ে সেটার দাম দিতে চাইলে ম্যানেজার তাকে লবণের প্যাকেটগুলোর কথা বলেন। এতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে, ওই গৃহিণী অনুনয়-বিনয় করতে থাকেন। তার ভুল স্বীকার ও কাঁদো কাঁদো অবস্থা দেখে, প্রায় ঘণ্টাখানেক জেরা করার পর, শপ ম্যানেজার ও অন্যান্যরা তাকে ক্ষমা করে দেন এবং পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেন। তবে চুরি করা ৩ প্যাকেট লবণের জন্য তার ১২০ টাকা গুনতে করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: এক কেজির বেশি লবণ কিনলেই আটক করছে পুলিশ!

লবণের প্যাকেট চুরি সম্পর্কে আরও খবর!

নিউক্যালি নিউজ২৪ এ আরও খবর পড়ুন!

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত পোস্ট পড়ুন!

    নতুন নতুন সংবাদ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!